ঢাকাশুক্রবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. Games
  2. করোনাভাইরাস
  3. খেলাধুলা
  4. জাতীয়
  5. টেকনোলজি
  6. দুর্ঘটনা
  7. বিনোদন
  8. লাইফস্টাইল
  9. সফলতার গল্প
  10. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ

কালের পোস্ট ডেক্স
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১ ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ad

মোঃ মেহেদি হাসান ইমন, পবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ আজ ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’। ২০০৩ সাল থেকে প্রতি বছর ১০ই সেপ্টেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশন’ (আইএএসপি) এবং ‘ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ’ (ডাব্লু এফ এম এইচ) এ দিবসটি পালন করে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো- “কাজের মাঝে জাগাই আশা”।

জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর ২০১৪ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে আট লাখেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে। সংস্থাটির মতে, বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করে এবং প্রায় ১৫ থেকে ২০ গুণ মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০২২ সাল নাগাদ এই সংখ্যা প্রতি ২০ সেকেন্ডে একজনে পৌঁছুবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংখ্যা আরও বলছে, গত ৪৫ বছরে আত্মহত্যার ঘটনা ৬০ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বে বর্তমানে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মানুষের মৃত্যুর প্রধান তিনটি কারণের একটি হলো আত্মহত্যা।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে গড়ে প্রতিদিন ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করে। যাদের বেশিরভাগই নারী। নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট আত্মহত্যাকারীদের বেশিরভাগের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তবে আত্মহত্যায় পুরুষের থেকে নারীর সংখ্যা বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ আত্মহত্যা করে শতকরা ৫০ ভাগ যেখানে নারীরা করে শতকরা ৭১ ভাগ। পৃথিবীর যত মানুষ আত্মহত্যার মাধ্যমে মৃত্যুবরণ করে, তার মধ্যে ২.০৬ শতাংশ বাংলাদেশি। বাংলাদেশে প্রতিবছর লাখে ১২৮.০৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করে। প্রতিবছর এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে আর এই আত্মহত্যার হার শহরের চেয়ে গ্রামে ১৭ গুণ বেশি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ(ডিএমপি)- এর দেশে আত্মহত্যা বিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশে আত্মহত্যা করেন ১০ হাজার ৭৪৯ জন। আর ২০১৭ সালে নভেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ২৫৬ জন। ২০১৮ সালে যা এসে দাঁড়ায় সাড়ে ১১ হাজারের বেশি।

আত্মহত্যার অনেক কারণ থাকতে পারে। তার মধ্যে একটি হলো- মানসিক চাপ। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ৮৭% থেকে ৯৮% আত্মহত্যা সংঘটিত হয়। এছাড়াও, আত্মহত্যাজনিত ঝুঁকির মধ্যে নেশায় আসক্তি, জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে না পাওয়া, আত্মহত্যায় পারিবারিক ঐতিহ্য অন্যতম। বর্তমানের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেকারত্ব, দারিদ্র্যতা, গৃহহীনতা এবং বৈষম্যতা জনিত উপাদানগুলো আত্মহত্যায় উৎসাহিত করে থাকে।

রিদ্র্যতা সরাসরি আত্মহত্যার সাথে জড়িত নয়। তবে, এর বৃদ্ধির ফলে আত্মহত্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং উদ্বেগজনিত কারণে ব্যক্তি আত্মহত্যা প্রবণতার উচ্চস্তরে অবস্থান করে। শৈশবকালীন শারীরিক ইতিহাস কিংবা যৌন অত্যাচার অথবা, কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সময় অতিবাহিতজনিত কারণও আত্মহত্যার ঝুঁকিগত উপাদান হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া যারা বিষণ্নতায় ভোগেন, তাদের মধ্যেও আত্মহত্যার প্রবণতা বিদ্যমান। বর্তমানে প্রেমে ব্যর্থতা বা প্রিয়জনের মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে আত্মহত্যা করার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। পরিবার বা সমাজ স্বীকৃতি না দেওয়ায় প্রেমিক যুগলের সম্মিলিত আত্মহত্যার ঘটনাও প্রায়ই ঘটছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা মহামারী গভীরভাবে মানসিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করেছে। এই মহামারী আরও কয়েক মাস বা বছর ধরে চলতে পারে। গত প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় গৃহবন্দি থাকা, স্বাভাবিক জনজীবন ব্যহত হওয়ায় ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে দুঃখ, উদ্বেগ, সংক্রমণের ভয়, হতাশা, অনিদ্রা, স্ট্রেস ডিসঅর্ডার এবং পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, অনিশ্চয়তা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, ক্লান্তি, হতাশাবোধ, প্রাণহানির ভয়, বেতন কাটা, চাকরি হারানো এবং অর্থনৈতিক অসুবিধার কারণে মানসিক সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। যা আত্মহত্যার প্রবণতা আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, আত্মহত্যাকারীদের দুই-তৃতীয়াংশই নিজেদের ইচ্ছা সম্পর্কে আগেই অন্যের কাছে (বন্ধু-বান্ধব) কম-বেশি তথ্য দেয়। সেসব তথ্য গুরুত্ব দিয়ে যথাযথ কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হলে সাধারণত যে আচরণগুলি লক্ষ্য করা যায়, তার মধ্যে মেজাজের পরিবর্তন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরক্তি; প্রচুর ঘুমোনো বা একেবারেই ঘুম না হওয়া, নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, কাছের মানুষদের সঙ্গে সম্পর্কে এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, পছন্দের বা ভালবাসার বস্তুগুলি অন্যদের উপহার দিয়ে দেওয়া বা উইল তৈরির ইচ্ছা, নেশার পরিমাণ বৃদ্ধি, একাকীত্বে ভোগা বা নিজেকে আঘাত করার প্রবণতা, অত্যাধিক মাত্রায় খাবার খাওয়া বা একেবারেই খাবার না খাওয়া, খুব সামান্য কারণে রাগ বা প্রতিহিংসার মনোভাব তৈরি হওয়া অন্যতম।

আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিশুদের বিকাশের সময় তাদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সফলতার মতো ব্যর্থতাকে মেনে নিতে পারে। আত্মহত্যার উপকরণ, যেমন ঘুমের ওষুধ, কীটনাশকের সহজলভ্যতা কমাতে হবে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঘুমের ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। যেকোনো ধরনের মানসিক সমস্যা বা আত্মহত্যার ইঙ্গিত পেলে দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। বিষণ্নতা, মাদকাসক্তি, ব্যক্তিত্বের বিকার, সিজোফ্রেনিয়াসহ সব মানসিক রোগের দ্রুত শনাক্ত করা ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পারিবারিক বন্ধনগুলো দৃঢ় করতে হবে আর পরিবারে প্রত্যেকের সঙ্গে গুণগত সময় কাটাতে হবে।

আত্মহত্যা একটি প্রতিরোধযোগ্য বিষয়। সঠিক সময়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে অবশ্যই আত্মহত্যা ঠেকানো যায়। এ জন্য সবাইকে যার যার ক্ষেত্র থেকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।